People Call One Another By Tongue Whistle In This Village:এই গ্রামে মানুষ একে অপরকে নাম ধরে ডাকেন না,ডাকেন সুরের মাধ্যমে 

এই গ্রামের বাসিন্দারা কেউ  কাউকে নাম ধরে ডাকেন না। তারা একে অপরকে ডাকে সুরের এবং ছন্দের ভাষায়। এই গ্রামটি বিশ্বের তিনটি সেরা গ্রামের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে এই গ্রামটি। সেরকমই একটি গ্রামের কথা আজ আপনাদের জানাবো। 

এটি মেঘালয়ের একটি গ্রাম।গ্রামএর নাম হলো কংথং গ্রাম। আবার এই গ্রামের সাবেকি নাম হলো জিঙ্গরই লবেই। এর মানে হলো সুরের গাঁ।মেঘালয়ের এই গ্রামটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।এই অপূর্ব সুন্দর পাহাড়িয়া গ্রাম হলো  জিঙ্গরই লবেই। এই গ্রাম এর ঐতিহ্য অনুযায়ী এখানে নবজাতকের জন্মের এক সপ্তাহের মধ্যে তার মা যে ঘুমপারানিয়া গান গেয়ে ওঠেন সেই অনুযায়ীই নবজাতকের নামকরণ করা হয়।এছাড়াও প্রত্যেক মায়ের গলার সুর বিভিন্ন ধরণের হয় ।যাতে সেই সুর অনুযায়ী তাদের সন্তানকে চেনার ক্ষেত্রে যাতে কেউ ভুল না করে। এই সুরই হয়  সেই সন্তানের আসল পরিচয়।

Meghalaya kong thong village people call one another by the musical tone
Credit To-eisamay.com

এই গ্রামজুড়ে মায়েরা ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন গানের সুর। সেই সুরগুলি একদমই তাদের নিজস্ব ভাবে তৈরী করা এবং স্থানীয় ভাষা অনুসারে। প্রত্যেক গ্রামবাসীর ই রয়েছে দুটি নাম। একটি হলো তাদের রোজকার এর নাম এবং অন্যটি তার নিজের মায়ের দেওয়া সুরেলা নাম। গানের যে দৈর্ঘ্য হয় সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম হয়। যার মা ছোটো করে সুর করেছিলেন তার  নাম হয় ছোট্টো, আর কারও মা যদি বড় করে সুর করেন তাদের সন্তানের নাম সেরকম বড় হয়। এটাই হলো গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্য।আসলে তাদের এই সুরেলা নামটি হল যেমন আমাদের ডাক নাম হয় একদম সেইরূপ।প্রাত্যহিক জীবনে এই ছোটো নামটিতেই সকলে অভ্যস্ত থাকেন। আর তাদের বড় নামটি দেওয়া হয় অপদেবতার হাত থেকে বাঁচতে যারা অরণ্যে বসবাস করে।

বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে কংথং গ্রামটি হুইসলিং ভিলেজ নামে জনপ্রিয়। বিহারের রাজ্যসভার সাংসদ রাকেশ সিনহা ২০১৯ সালে এই গ্রামটিকে কংথং দত্তক নিয়েছিলেন।এই গ্রাম খাসি পাহাড়ের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।এটি রাজধানী শিলং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সেটি ভাষায় প্রকাশ্য নয়।এই গ্রামে মাত্র ৬৫০ জন বাসিন্দা বসবাস করেন।গত বছর কংথং ইউনাইটেড নেশনস্ ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন বা UNWTO-এর সেরা পর্যটন গ্রামের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে ।সেই তালিকায় দেশের আরও দুটি গ্রাম রয়েছে। সেই দুটি হলো মধ্যপ্রদেশের লাডপুরা খাস এবং তেলাঙ্গানার পোচমপল্লি।

Meghalaya kong thong village people call one another by the musical tone
Credit To-edtimes.in

মেঘালয়ের কংথং গ্রামের বাসিন্দারা সকলেই স্বনির্ভর।এখানকার গ্রামবাসীরা মধু সংগ্রহ করে এবং তা জৈব মধু রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় পারদর্শী।এই জৈব মধুই এই গ্রামের খুবই বিক্রয়যোগ্য পণ্য।এই মধু হলো এই রাজ্যের নিজস্ব পণ্য,যেটি এই গ্রামকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।গ্রামবাসীরা নিজেদের গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সম্পদকে রক্ষা করার জন্য খুবই পারদর্শী । এই গ্রামে পর্যটন ব্যবস্থা রয়েছে।এই গ্রাম ঘোরার ভালো সময় হলো  অক্টোবর-এপ্রিল মাস।আপনি  শিলং থেকে গাড়ি ভাড়া করে এই কংথং গ্রামে পৌঁছোনো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *